বৃহস্পতিবার , ১১ জানুয়ারি ২০২৪ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আর্জেন্টিনা
  5. ইউক্রেন
  6. ইরান
  7. খেলাধুলা
  8. চীন
  9. জবস
  10. জাতীয়
  11. তথ্যপ্রযুক্তি
  12. দুর্ঘটনা
  13. দেশজুড়ে
  14. ধর্ম
  15. প্রবাস

উখিয়ায় পাহাড় কাটার মহা উৎসব

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ১১, ২০২৪ ৫:০২ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ নাছিম, উখিয়া’

পৃথিবীর লোহ দণ্ড বলা হয় পাহাড়কে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় যার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।
এর ওপর ভর করেই প্রকৃতি তার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অথচ এক শ্রেণির ভূমিদস্যুরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলে সেই পাহাড়গুলোকে সাবাড় করছে।

সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শত শত পাহাড় রয়েছে। তবে সেসব পাহাড়গুলোতেও পড়েছে ভূমি খোকোদের থাবা।
নিজস্ব ফায়দা লুটতে পাহাড়ের মাটি কেটে বিক্রি, আবাস্থল গড়ে তোলাসহ নানা স্বার্থে এসব পাহাড়গুলোকে নির্বিচারে বিলীন করে দিচ্ছে।
সকাল থেকে রাত সমান তালে চলে পাহাড় কাটার কাজ।
তবে বেশিরভাগ সময়ে নিঝুম রাতে চলে বনাঞ্চলের আবৃতে ঘেরা পাহাড় কাটার ধুম। বিগত কয়েক বছরে এ অঞ্চলের প্রায় অর্ধেকের চেয়ে বেশি পাহাড় ও টিলা কেটে সমতল করা হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মাঝে চাপা ক্ষোভ থাকলেও প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতেও পারছেন না। প্রভাবশালী মহলটি ক্ষমতার দাপট ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতের আধাঁরে পাহাড়ের মাটি কেটে সাবাড় করে ফেলছে। ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য হুমকি মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নের গ্রামগুলো ঘুরে দেখা যায়, উঁচু পাহাড়ের মাঝখানে মাটি কেটে করা হয়েছে সমতল। পাশেই অস্থিত হারানোর পাহাড়ের ক্ষত চিহ্ন। কোথাও কোথাও পাহাড়ের বুক চিরে সমতল করা জায়গায় স্থানীয় এক শ্রেণির বাসিন্দারা ঘর নির্মাণের কাজে ব্যস্ত। যেন পাহাড় কাটার উৎসবে নেমেছে তারা। সে সঙ্গে পাহাড়ের চূড়ায় থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নিধন করে ফেলছে। প্রকৃতির বুকে মানুষের এমন থাকায় জীববৈচিত্র্য এখন হুমকির মুখে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাহাড়ের মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে অধ্যাধুনিক ভেকু মেশিন। যার মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে পাহাড়ের মাটিগুলোকে কেটে ফেলা হচ্ছে। মাটি কেটে সেগুলোকে ডাম্পার যোগে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকেই গর্ত বা জমি ভরাট করে ঘর বাড়ি নির্মাণ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, যেভাবে নির্বিচারে ও অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে তা জনজীবনে হুমকি স্বরূপ। পাহাড়ের তলে কিংবা পাহাড়ে যেসব বাড়িঘর রযেছে ভারী বর্ষণে যেকোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে। এতে ব্যাপক প্রাণহানির আশংকাও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা এসটিএন’র প্রতিবেদককে বলেন, পাহাড় কাটা বেআইনি কিনা তা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ আমাদের অবহিত করেনি। অনেকেই পাহাড় কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করেছে। বিনা বাঁধায় মাইলের পর মাইল পাহাড় সাবাড় করা হয়েছে। এতে নেই প্রশাসনের নজর দারি। পাহাড় কাটা অপরাধ কি-না জানিনা। তবে আমরা স্ব স্ব বিট অফিসার কে টাকা দিয়ে আমরা আমাদের পারিবারিক প্রয়োজনে পাহাড় অংশ কেটে ঘর বাড়ি নির্মান করি।

স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল বশর বলেন, বিট অফিসার বা মুন্সি এসে প্রথমে পাহাড় কাটার বন্ধ করে দেয়। পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। যোগাযোগ করলেই চলে টাকার লেনদেন। তারপর সব কিছু হালাল হয়ে যায়।

স্হানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রতিনিয়ত রাত হলেই শুরু হয় পাহাড় কাটা। আমাদের ইউনিয়নে প্রায় তিন ভাগের মধ্যে দুই ভাগই পাহাড় কেটে ফেলেছে। যদি প্রশাসন কোনো উদ্যোগ না নেয় তাহলে আর কিছুদিন পর এখানে আর কোন পাহাড় খুঁজে পাওয়া যাবে না।

খয়রাতি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাহাব উদ্দিনের বরাতে একই গ্রামের নুরুল বশর বলেন, আমি একটা বারান্দা তৈরি করার জন্য মুন্সি সোহেল কে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। তবে টাকার নেওয়ার বিষয়টা মুন্সি সোহেল অস্বীকার করেন।

অভিযোগ রয়েছে কথিত বিট কর্মকর্তা ও মুন্সির বিরুদ্ধে, তারা প্রথমে বাঁধা দেয়। পরে টাকার বিনিময়ে নিরব থাকে। তবে শত-শত অভিযোগ রয়েছে মুন্সি সোহেল বিরুদ্ধে, তিনিই সব কিছু সামলাই। মুন্সির সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে উখিয়ার স্ব-স্ব বিট কর্মকর্তা’রা বলেন, পাহাড় কাটা সম্পূর্ণ একটি বেআইনি কাজ। এটি কোনোভাবে গ্রহণ যোগ্য নয়। আমরা খবর পেয়েছি একটি চক্র গভীর রাতে পাহাড়ের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আমরা অভিযান চালালে উপস্থিতি টের পেয়ে ওই মহলটি পালিয়ে যায়। সার্বক্ষণিক বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ - Uncategorized

আপনার জন্য নির্বাচিত